নাটোরে ৫ দিনে ৫ মৃতদেহ উদ্ধার, উদ্বেগ।

নাটোর:নাটোরে এখন প্রায় প্রতিদিনই মিলছে মৃতদেহ। পুকুর, ডোবা, মাঠ, ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হচ্ছে এসব মৃতদেহ। ছাত্র, ইজিবাইক চালক, প্রতিবন্ধী কেউই বাদ যাচ্ছে না হত্যাকান্ড, আতœহত্যা বা অপমৃত্যু থেকে। এসবের শুরু গত ৪ঠা জুলাই থেকে। ওইদিন সিংড়া, ৫ই জুলাই নাটোর সদর, ৬ই জুলাই বড়াইগ্রাম, ৭ই জুলাই বাগাতিপাড়া ও ৮ই জুলাই গুরুদাসপুর থেকে মোট ৫দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ৫টি মৃতদেহ। এর মধ্যে সিংড়া, নাটোর সদর ও গুরুদাসপুরে ঘটনাকে হত্যাকান্ড, বাগাতিপাড়া ঘটনাকে আতœহত্যা এবং বড়াইগ্রামের ঘটনাকে অপমৃত্যু বলছে পুলিশ।
গত ৪ঠা জুলাই নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল জোড়মল্লিকা মাঠ থেকে ওই গ্রামর উমেদ আলীর ছেলে রাসেলের (১৮) লাশ উদ্ধার করে সিংড়া থানা পুলিশ। তার পরিবারের লোকজন জানায়, মঙ্গলবার (৩রা জুলাই) বিকেলে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা শেষে সন্ধ্যায় গ্রামের চা স্টলে বসে রাসেলকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। পরদিন সকালে জোড়মল্লিকা মাঠের ড্রেনে রাসেলের লাশ পাওয়া যায়।
পরদিন (৫ই জুলাই) বৃহষ্পতিবার সকালে সদর উপজেলার ছাতনী পীরগঞ্জ বুড়িবটতলা এলাকার একটি পরিত্যাক্ত ডোবায় শহরের তেবাড়িয়ার এলাকার জহির উদ্দীন (৫৪) নামের এক ইজিবাইক চালকের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। জহির মঙ্গলবার (৩রা জুলাই) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার(৪ঠা জুলাই) দিনভর পরিবার ও আতœীয়স্বজন জহিরের খোঁজ করে। বৃহষ্পতিবার সকালে ৮টার পর ছাতনী পীরগঞ্জ বুড়িবটতলার একটি পরিত্যাক্ত ডোবায় একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। এসময় মৃতদেহটি নিখোঁজ ইজিবাইক চালক জহিরের বলে নিশ্চিত হয়।
পরদিন (৬ জুলাই) শুক্রবার নাটোরের বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের খাঁ পাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে ওই গ্রামের মৃত হাসান আলী সেখের ছেলে রেজাউল করিমের (৩০) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রেজাউল পেশায় একজন ভ্যান চালক। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যার পর বাড়িতে ভ্যান রেখে রেজাউল বাইরে চলে যায়। রাতে বাড়িতে না ফিরে আসলে তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান চালানো হয়। পরে সকালে বাড়ি থেকে প্রা এক হাজার গজ দূরে রাস্তার পাশে একটি পুকুরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
পরদিন (৭ই জুলাই) নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রতন আলী (২৫) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেজামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মান্নান আলীর ছেলে।। তবে পুলিশ জানায়, গত ৬ জুলাই রাতের কোন এক সময় সবার অগোচারে রতন পাশ্ববর্তী শ্রী আনন্দ কুমার এর আম বাগানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মানিক বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া থানায় এটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।
সবশেষ, গত ৮ই জুলাই রোববার জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাটোর-ঢাকা মহাসড়ক থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, পরপর ৫ দিন এভাবে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা নাটোরে এর আগে কখনও ঘটেনি। এসব ঘটনার কারণ হিসেবে তারা দায়ী করেন পূর্ব বিরোধ, লোভ, হতাশা ও সামাজিক অবক্ষয়কে। ভোটের বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মাধ্যমে ভয়ভীতি ছড়ানোরও একটি কৌশল হতে পারে এটি, বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
মানবাধিকার কর্মী মিলন রহমানের মতে, সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়াতেই ধারাবাহিকভাবে ঘটছে হত্যাকান্ড।
জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, গত ৫ দিনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিজনিত কারণে লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো ঘটেনি। পুলিশ মানুষের জানমাল রক্ষায় সচেষ্ট আছে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.