নাটোরে পুলিশকে মেরে মাদক ব্যবসায়ী ছিনতাই, গণগ্রেফতারে পুরুষশূন্য গ্রাম!

প্রতীকি ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক॥
নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যদের হামলায় এএসআই শিবলু রহমান এএসআই মতিউর রহমান নামে পুািলশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক ব্যাবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে (২২) গ্রেফতার করতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের পিটুনীতে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা আহত হয়। শনিবার ১২টার দিকে উপজেলার বড়াইগ্রাম পৌরসভার জলন্দা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে গণগ্রেফতারসহ পুলিশি এ্যাকশন চালায়। ফলে প্রাণ ভয়ে গ্রামের পুরুষেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এঘটনায় আহত ওই দুই পুলিশ সদস্যকে বড়াইগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বড়াইগ্রাম হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. খালিদ মাহমুদ জানান, পুশিরে এএসআই শিবলু রহমান এবং এএসআই মতিউর রহমান হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানায়,ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত ২০জনকে তাৎক্ষনিকভাবে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে জমসেদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ইদ্রিস আলী, বাসেদা বেগম, রিক্তা খাতুন ও পিয়া খাতুনের নাম জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বড়াইগ্রাম থানার এএসআই শিবলু রহমান এবং এএসআই মতিউর রহমান সাদা পোশাকে জলন্দা গ্রামের মাদকব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে যায়। তাদের বাড়িতে গিয়ে জাহিদুলকে আটক করে নিয়ে আসার সময় তার বাবা জমসেদ আলী বাধা দিয়ে বিতর্কে জড়ান। এসময় তিনি জমসেদ ও জাহিদুল নামে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে ভূয়া পুলিশ বলে চিৎকার করতে থাকে এবং তাদের ওপর চড়াও হয়ে পিটুনী দিয়ে। পুলিশের পোশাক না থাকায় প্রতিবেশীরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মাদক ব্যাবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে এএসআই শিবলু মোবাইল ফোনে বিষয়টি থানায় জানালে, অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে গণগ্রেফতার শুরু করে। এসময় পুলিশের বেধড়ক পিটুনীতে অনেক সাধারণ মানুষ জখমসহ আহত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ,নারীরাও পিটুনীর শিকার হয়েছে । এছাড়া পুলিশ পাশের গ্রামেও অভিযান চারিয়ে নিরপরাধ লোকদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে।
জলন্দা গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য মকবুল হোসেন, ওসুধ ব্যবসায়ী মাহাবুবুল হোসেন ও গৃহবধু আখি বেগম জানান, জাহিদুলের বাড়িতে পুলিশের কি হয়েছে আমরা জানিনা। কিন্তু পুলিশ অযথাই গোটা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নারী-পুরুষ সবার উপর লাঠিচার্জ করেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছে তারা। এসময় পুলিশের নির্মম পিটুনি খেয়ে আহত হয়েছেন সাধারণ পথচারী হারুন,মন্টু, মজনু সহ অন্তত ১০ জন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাৎক্ষনিক পুলিশি অভিযানে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হবে। বার্কীদের নামে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি দিলিপ কুমার দাস।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুনর রশীদ গণগ্রেফতার বা পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করে বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুলকে গ্রেফতার করে আসার সময় তার পরিবারের লোকজন দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাদিুলের পরিবারের কয়েকজন সদস্য সহ সন্হেভাজন কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিক্র না হয় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.