নাটোরের বড়াইগ্রামে কলেজ শিক্ষক নিখোঁজ।

বড়াইগ্রাম :নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া কলেজের আরবী বিষয়ে সিনিয়র প্রভাষক মাসুদ রেজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে তিনি কলেজ অফিস থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে যান নাই। এরপর থেকেই তার ব্যবহুত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। বিকেলে বাসায় না ফেরায় তার স্ত্রী মোবাশ্বেরা ও দুই ছেলে কলেজে মাসুদ রেজাকে খোঁজ করতে এলে বিষয়টি সরাব নজরে আসে। এ বিষয়ে মাসুদ রেজার স্ত্রী বড়াইগ্রাম থানায় সন্ধায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুরাম দাস জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষককে উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশের টিম কাজ শুরু করেছেন।
মাসুদ রেজার স্ত্রী মোবাশ্বেরা বলেন, সকালে মাসুদ ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে কলেজে গেছেন। বাসায় বলে গেছেন তিনি কলেজে হাজিরা দিয়ে পাবনায় ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে যাবেন। সেখান থেকে ফিরে কলেজ হয়ে বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার খাবেন। দুপুরে বাসায় না যাওয়ার পর তাকে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভেবেছিলাম নামাজে গিয়ে হয়তো ফোন বন্ধ করেছে। বাসায় এলে বিষয়টি মনে করিয়ে দেবেন। কিন্তু এরপরই ছোট ছেলে বাসায় গিয়ে জানায় আব্বুকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ থাকায় কলেজের কোন স্যারও তাকে পাচ্ছেন না। এখবর শুনে তিনি অপর ছেলেকে সাথে নিয়ে কলেজে আসেন। সেখানেও কোন খোঁজ না পেয়ে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়রী করেছি। তিনি আরো বলেন, জানামতে মাসুদের সাথে কারো বিরোধ নাই। কেন তাকে পাওয়া যাচ্ছে না কোনভাবেই বুঝে উঠতে পারছি না।
বনপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল কুমার দাস জানান, মাসুদ রেজা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে কলেজে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরে গেটের দিকে বের হয়ে যান। ধারনা করেছিলাম জোহরের নামাজের জন্য যাচ্ছেন । কিন্তু দীর্ঘক্ষণ না ফেরায় বিষয়টি উদ্বেগের কারন হয়ে দেখা দিয়েছে।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্ট রফিকুল ইসলাম বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে আমি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষসহ উপস্থিত অনেক শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। কেন তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন, এমন সম্ভাভ্য কারন বের করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া তার সন্ধান পেতে সবর ধরনের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার দাস বলেন, শিক্ষক মাসুদ রেজাকে উদ্ধারের জন্য মোবাইল ট্রাকিংসহ সবধরনে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রুতই তার সন্ধান পাব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) হারুন-অর রশিদ জানান, শিক্ষক মাসুদ রেজা নিখোজের সময়টা খুবই কম। এসময় পর্যন্ত ব্যক্তিগত ভাবে কেই কোন কাজে থাকতে পারে। তবু জিডির আলোকে আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.